প্রকাশিত: Tue, Dec 13, 2022 4:11 PM
আপডেট: Thu, Mar 12, 2026 11:07 AM

দেশীয় কয়লা তোলার সিদ্ধান্ত শিগগিরই: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

মনজুর এ আজিজ : বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেছেন, উন্নত প্রযুক্তির বিষয়ে আমরা একটি মতামতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই দেশীয় কয়লা তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সমন্বিত বিদ্যুৎ জ্বালানি মাস্টারপ্ল্যান সংক্রান্ত যৌথসভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। জাইকা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন কোম্পানির প্রধানরা অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় কয়লার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। মন্ত্রণালয় একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী, তাকে অবহিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা সব ধরনের বিকল্প নিয়ে ভাবছি, কয়লাকে এখন আধুনিক পদ্ধতি প্যাসিফিকেশন করেও উত্তোলন করা যায়।

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দামের বিষয়টি বার্কের উপর নির্ভর করবে, তারা যদি বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, তাহলে বাড়বে না। আমরা চেষ্টা করছি গ্রাহকের কতটা সহনীয় রাখা যায়, গ্রাহককে কষ্ট দিতে চাইনা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির প্রভাব সারাবিশ্বে পড়েছে, আমরাও তার বাইরে না। পাইকারি দাম বেড়েছে সেখানেও বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি রয়েছে। আমরা ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চাই। এজন্য জ্বালানিতে ওপেন মার্কেট পলিসিতে যেতে চাই, বিদ্যুতের সঞ্চালন খাতও উন্মুক্ত করতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিল্প বিপ্লব হচ্ছে, বিশ্বের অনেক শিল্প বাংলাদেশে আসছে। তাদের দরকার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস। তাদের কাছে দাম বড় বিষয় না। অন্যদিকে আবাসিকে দাম বড় ইস্যু। আমরা দুটির মধ্যে সমন্বয় রাখার চেষ্টা করছি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, মিটিগেশন আমাদের দায়িত্ব না, এগুলো উন্নত দেশের জন্য প্রযোজ্য। আমরা কার্বন ইমিশনের জন্য দায়ী না, তাদের তুলনায় অনেক কম কার্বন নিঃসরণ করি। এনার্জি ট্রানজিশনাল শব্দটি আমাদের জন্য যুক্তিসঙ্গত না, এটিও উন্নত দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কয়লা থেকে সরে অন্যদিকে যাচ্ছে সেটাকে ট্রানজিশনাল বলে। 

তিনি বলেন, কপ-২৭ এ লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার দেবে উন্নতবিশ্ব। এই ফান্ড দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাজ করবে। আমরা ওই ফান্ড থেকে প্রকল্প নিতে পারি। পরমাণু বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব হিসেবে পরিচিত। পরমাণু বিদ্যুতের স্মল মডিউলার প্রযুক্তি আবিস্কার হয়েছে। ছোট ছোট মডিউলার এসেছে, আমরা পরীক্ষামূলক স্মল মডিউলার প্রযুক্তি স্থাপন করতে পারি। আমাদের সামনে হাইড্রোজেন ও কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি রয়েছে।

ফুয়েল মিক্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রকল্প নিয়ে ফেলেছি। সবগুলোর কাজ চলমান রয়েছে, এরপর ফুয়েল মিক্স নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দক্ষ হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। সম্পাদনা: খালিদ আহমেদ